15th Aug 2019: আসন্ন অষ্টম মেম্বারশীপ ভেরিফিকেশন ,

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ অষ্টম মেম্বারশীপ ভেরিফিকেশন এ বিএসএনএল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন কে পুনরায় বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করুন 

 

20th Mar 2019: বিএসএনএলইইউ এর ১৯তম প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করুন,

আগামী ২২ মার্চ ২০১৯  বিএসএনএলইইউ এর ১৯তম প্রতিষ্ঠা দিবস বিএসএনএল এর প্রতিটি অফিস দফতরে ব্যাপক ঊদ্দীপনার সাথে পালন করুন। 

 

Com Prabir Kumar Dutta
( President )

Com. Sisir Kumar Roy
( Secretary )

Com. Debasis Dey
( Treasurer )

 
 
bsnleuctc@yahoo.co.in
 
BSNL Employees Union Calcutta Telephones Circle
 
Site Updated On : 19th Nov 2020
 
[2nd Nov 2020]

आम हड़ताल में व्यापक रूप से शामिल होवें- कॉम तपन सेन की BSNLEU कर्मियों से अपील.

 

BSNLEU द्वारा 28 अक्टूबर, 2020 को शाम 6.00 बजे, 26 नवंबर, 2020 को होने वाली हड़ताल हेतु कर्मचारियों को संगठित करने के लिए फेसबुक पर लाइव कार्यक्रम आयोजित किया गया। कॉम तपन सेन, महासचिव, सीटू ने संबोधित किया। उन्होंने इस पर प्रकाश डाला कि किस तरह विगत सरकारों के निजी समर्थक और BSNL विरोधी कदम उठाए जाने से BSNL लगातार कमजोर होता जा रहा है। उन्होंने, नरेंद्र मोदी सरकार द्वारा सार्वजनिक उपक्रमों के वृहद रूप से किए जा रहे निजीकरण बाबद विस्तार से समझाया। कॉम तपन सेन ने स्पष्ट किया कि कर्मचारियों द्वारा संघर्षों से हासिल अधिकारों को छीन कर मोदी सरकार उन्हें बड़े कॉर्पोरेट्स का गुलाम बनाने हेतु प्रयासरत है। कॉम तपन सेन ने विभिन्न संघर्षों, उदाहरण के लिए कोयला क्षेत्र के कर्मियों, BPCL और ऑर्डनेन्स फैक्ट्री के कर्मियों और उत्तर प्रदेश के इलेक्ट्रिसिटी कर्मियों के संघर्षों का जिक्र किया जहां सरकार द्वारा निजीकरण कार्यवाही को वापस लेना पड़ा। अंत में, कॉम तपन सेन ने BSNL कर्मियों से, BSNL के हितों की रक्षा के लिए और साथ ही मोदी सरकार के कर्मचारी विरोधी, और पब्लिक सेक्टर विरोधी अभियान को रोकने के लिए 26 नवंबर, 2020 को होने वाली आम हड़ताल में वृहद रूप से शामिल होने की अपील की।   

 
[18th Oct 2020]

ধর্মঘট ও তার প্রচার এর জন্য বিএসএনএলইইউ এর আহ্বান

 

বিএসএনএল এর পুনরূজ্জীবন প্রকল্প যা বিপুল ঢক্কানিনাদ এর মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছিল তা প্রায় এক বছর অতিক্রান্ত। ৮০০০০ কর্মচারীকে স্বেচ্ছাবসর এর নামে ছাঁটাই করা হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও নিয়মিত কর্মচারীরা এখনও পর্যন্ত তাদের বেতন সময় মতো পাচ্ছেন না। দীর্ঘ সময় ধরে নথিভুক্ত হাসপাতালগুলির বিল বকেয়া থাকায় কর্মচারীরা সেখান থেকে পয়সা ছাড়া চিকিৎসার সুবিধা পাচ্ছেন না। ঠিকা কর্মচারীরা বিগত ১৫ মাস ধরে তাদের বেতন পাচ্ছেন না। 

৪জি পরিষেবা প্রদান করার ব্যাপারে বিএসএনএল বেসরকারি কোম্পানি গুলির থেকে ৪ বছর পিছিয়ে আছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার ৪জি স্পেকট্রাম প্রদান করার ঘোষণা করা সত্ত্বেও বিএসএনএল এখনও ৪জি পরিষেবা প্রদান করতে সক্ষম নয়। কারণ কেন্দ্রীয় সরকার বিএসএনএল কে ৪জি পরিষেবা চালু করতে দিতে ইচ্ছুক নন। বিএসএনএল যখন ৪জি পরিষেবা চালু করার জন্য টেন্ডার আহ্বান করে তখন কেন্দ্রীয় সরকার তা বাতিল করে দেন। যেখানে বেসরকারি কোম্পানিগুলি নোকিয়া, এরিকসন, স্যামসাং প্রভৃতি বিদেশী কোম্পানির থেকে উপযুক্ত যন্ত্রাংশ কেনার মাধ্যমে তাদের পরিষেবা চালু করতে পারে সেখানে বিএসএনএল কে ৪জি যন্ত্রাংশ ভারতীয় কোম্পানির থেকে কিনতে হবে। যদিও একথা সবাই জানে যে ভারতের কোনো কোম্পানি বিএসএনএল এর ৪জি পরিষেবা চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সরবরাহ করতে সক্ষম নন। 

এখন সব থেকে বড় প্রশ্ন, কেন্দ্রীয় সরকার কেন বিএসএনএল এর ৪জি পরিষেবার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ এর টেন্ডার বাতিল করে ছিলেন। এর সহজ উত্তর হলো, কেন্দ্রীয় সরকার চাইছে না যে বিএসএনএল রিলায়েন্স জিও কে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে ফেলে দেয়। ট্রাই এর তথ্য অনুযায়ী, মে ২০২০তে এয়ারটেল ও ভোডাফোন-আইডিয়া প্রত্যেকেই ৪৭ লাখ গ্রাহক হারিয়েছে। সেখানে বিএসএনএল ৪জি পরিষেবা না থাকা সত্ত্বেও ঐ মাসে ২লাখ নতুন গ্রাহক যোগ করেছে। এর থেকে বোঝা যায় যে যদি বিএসএনএল এর ৪জি পরিষেবা চালু করতে পারতো তাহলে রিলায়েন্স জিও কে কি কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হতো। ঠিক এই কারণে বিএসএনএল কে কেন্দ্রীয় সরকার ৪জি পরিষেবা চালু করতে অনুমতি দিচ্ছে না। 

বিএসএনএল ৪জি পরিষেবা চালু করতে না পারার কারণে তার আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে না। যখন অন্যান্য বেসরকারি কোম্পানি গুলি ৫জি চালু করার জন্য চেষ্টা করছে তখন বিএসএনএল ৪জি পরিষেবা চালু করতে পারে নি। এই পরিস্থিতি যদি চলতে থাকে তবে বিএসএনএল সত্যিই একটি রুগ্ন সংস্থায় পরিণত হবে। অন্যদিকে রিলায়েন্স জিও যবে থেকে পরিষেবা প্রদান শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে তাকে সহায়তা করে চলেছে। তাই কর্মচারীদের একথা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে রিলায়েন্স জিও এর সুবিধা করে দেওয়ার জন্য বিএসএনএল কে ৪জি পরিষেবা চালু করতে দেওয়া হচ্ছে না। 

বিএসএনএলইইউ ও এইউএবি অসংখ্য বার এই দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলেছে যে বিএসএনএল এর ৪জি পরিষেবা চালু করার পথে সমস্ত বাধা অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকার কে সরাতে হবে। যেহেতু কর্মচারীদের এই দাবি কেন্দ্রীয় সরকারের বধির কানে প্রবেশ করছে না তাই কঠিন আন্দোলন শুরু করা ছাড়া কর্মচারীদের কাছে অন্য কোন পথ নেই। বিএসএনএলইইউ এর অনলাইন সেন্ট্রাল এক্সিকিউটিভ কমিটির মিটিং গত ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর,২০২০ এ সমস্ত সার্কেল ও জেলাগুলিকে আহ্বান জানান যে আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে কর্মচারী ও জনগণের মধ্যে আমাদের দাবিগুলো নিয়ে ব্যাপক প্রচার করতে হবে এবং ২৬ নভেম্বর, ২০২০ ধর্মঘট পালন করা হবে। বিএসএনএল এর কর্মচারীদের এখন কর অথবা মর পরিস্থিতি, হয় তাদের আন্দোলন এর মধ্যে দিয়ে বিএসএনএল কে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে অথবা বিএসএনএল একটি রুগ্ন সংস্থায় পরিণত হয়ে ক্রমে রিলায়েন্স জিও এর অধিনস্থ সংস্থায় পরিণত হবে। 

দাবি সনদ

১) অবিলম্বে বিএসএনএল এর ৪জি পরিষেবা চালু করতে হবে। বেসরকারি কোম্পানিগুলির সঙ্গে যন্ত্রাংশ কেনার ব্যাপারে কোনো পক্ষপাতিত্ব করা চলবে না। 

২) তৃতীয় বেতন চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে। 

৩) কাজের আউটসোর্সিং এর নামে ঠিকানা কর্মচারীদের ছাঁটাই করা চলবে না। ছাঁটাই হওয়া কর্মচারীদের অবিলম্বে নিয়োগ করতে হবে। ঠিকা কর্মচারীদের বকেয়া বেতন প্রদান করতে হবে। 

৪) ০১/০১/২০১৭ পেনশন সংশোধন করতে হবে। 

৫) নন-এক্সিকিউটিভ কর্মচারীদের জন্য নতুন পদোন্নতির ব্যবস্থা চালু করতে হবে। 

৬) অবিলম্বে জেটিও, জেএও, জেই ও টিটি পদে উন্নীত করার জন্য এলআইসিই নিতে হবে। 

৭) কোভিড১৯ এর আক্রমণে মৃত কর্মচারীদের ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপুরণের বন্দোবস্ত করতে হবে। নিখরচায় হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। 

৮) নন-এক্সিকিউটিভ কর্মচারীদের জন্য গ্রুপ টার্ম ইনসিওরেন্স এর ব্যবস্থা করতে হবে। 

৯) বিএসএনএল এ নিযুক্ত কর্মচারীদের ৩০ শতাংশ অবসরকালীন সুবিধা প্রদান করতে হবে। 

১০) ক্যাজুয়াল কর্মচারীদের বেতন সংশোধন করতে হবে। 

বিএসএনএল কেন্দ্রীয় সরকারের কর্পোরেট অনুসারী ও বিএসএনএল বিরোধী নীতির কারণে আক্রান্ত

১) বেসরকারি কোম্পানি গুলিকে ১৯৯৫ সালে মোবাইল পরিষেবা প্রদান এর লাইসেন্স প্রদান করা হয়। কিন্তু তৎকালীন নরসিমহা রাও সরকার তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থা ডিওটিকে মোবাইল পরিষেবার অনুমতি দেন নি। বিএসএনএল কে মোবাইল পরিষেবা প্রদান করার অনুমতি দেওয়া হয় ২০০২ সালের শেষের দিকে। এই মোবাইল লাইসেন্স পেতে সাত বছর দেরী কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা বিএসএনএল এর বিপুল ক্ষতি করে দেয়। 

২) ১৯৯৯ সালে অটল বিহারী বাজপেয়ী এর নেতৃত্বাধীন সরকার বেসরকারি টেলিকম কোম্পানিগুলির বকেয়া লাইসেন্স ফি মকুব করে দেন যার পরিমাণ ১০০০০ কোটি টাকার উপর। এর মধ্যে দিয়ে ঐ কোম্পানিগুলি আর্থিক সহায়তা পায়। বেসরকারি টেলিকম কোম্পানিগুলির সুরাহার জন্য তৎকালীন সরকার নির্দিষ্ট লাইসেন্স ফি এর পরিবর্তে রাজস্ব আদায়ের অনুপাতে কর আদায় এর প্রক্রিয়া শুরু করেন। এর ফলে বেসরকারি টেলিকম কোম্পানিগুলির সুবিধা হয়ে যায় কম রাজস্ব আদায় দেখিয়ে তুলনামূলক কম লাইসেন্স ফি দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কে ঠকানোর। 

৩) রিলায়েন্স ইনফোকম দেশে ফিক্সড লাইন পরিষেবা চালু করার কেবলমাত্র অনুমতি পেয়ে ছিল। কিন্তু সিডিএমএ প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সারা দেশে মোবাইল পরিষেবা চালু করে। তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার রিলায়েন্স ইনফোকম এর সহায়তায় এগিয়ে আসে এবং দেশে ইউনিফায়েড সার্ভিসেস এক্সেস লাইসেন্সিং পদ্ধতি চালু হয়। 

৪) ইউপিএ নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের সময়েও একটার পর একটা কারণ দেখিয়ে বিএসএনএল এর যন্ত্রাংশ কেনার টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। মনে রাখতে হবে ২০০৬ থেকে ২০১২ যখন দেশে মোবাইল পরিষেবা বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করছে তখন বেসরকারি কোম্পানিগুলি এর লাভ গ্রহণ করলেও বিএসএনএল কে পরিষেবা চালু করতে দেওয়া হল না। বিএসএনএল এর রুগ্ন সংস্থায় পরিণত হওয়ার এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ। 

৫) ট্রাই ও কম্পিটিশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া এর বেঁধে দেওয়া নিয়মের বাইরে গিয়ে রিলায়েন্স জিও কে প্রিডেটরী প্রাইসিং এর সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। ডিওটি, ট্রাই ও কেন্দ্রীয় সরকার রিলায়েন্স জিও কে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল টেলিকম সাম্রাজ্য গঠনে সহায়তা করেছিলেন। রিলায়েন্স জিও এর প্রিডেটরী প্রাইসিং এর বিষয়ে প্রশ্ন তোলায় শ্রী এস কে দীপক, তৎকালীন সেক্রেটারি ডিওটিকে পদ থেকে অপসারিত করা হয়। 

৬) এমনকি মে ২০২০ ট্রাই এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিএসএনএল ২ লাখ নতুন গ্রাহক সংগ্রহ করেছে যেখানে এয়ারটেল ও ভোডাফোন-আইডিয়া প্রত্যেকেই তাদের গ্রাহক সংখ্যা ৪৭ লাখ করে হারিয়েছে। বিএসএনএল এই গ্রাহক অর্জন করেছে ৪জি পরিষেবা চালু না করেই। এই ঘটনা এটাই প্রমাণ করে যে বিএসএনএল এর রিলায়েন্স জিও কে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি ফেলার ক্ষমতা আছে। সেই জন্যই বিএসএনএল কে ৪জি পরিষেবা চালু না করতে দেবার জন্য এত চক্রান্ত হচ্ছে। 

 
[17th Oct 2020]

০২/১১/২০২০ বিএসএনএলইইউ এর সেন্ট্রাল এক্সিকিউটিভ কমিটির অনলাইন সভার নোটিশ জারি হয়েছে

 

বিএসএনএলইইউ সিএইচকিউ এর পক্ষ থেকে আগেই জানান হয়েছিল যে আগামী ২ নভেম্বর, ২০২০ সেন্ট্রাল এক্সিকিউটিভ কমিটির সভাপতি অনলাইনে হবে। সেই সংক্রান্ত নোটিশ আজ জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে সিইসি এর সমস্ত সদস্য কে এই সভায় অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে। 

 
[7th Oct 2020]

বিএসএনএলইইউ কলকাতা টেলিফোন্স সার্কেল এর মধ্যাহ্ন কালীন বিরতিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি

 

আজ ৭ অক্টোবর, ২০২০ কলকাতা টেলিফোন্স এর সিজিএম এর দপ্তর টেলিফোন ভবনে মধ্যাহ্নকালীন বিরতিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয় বিএসএনএলইইউ এর নেতৃত্বে। কম শিশির কুমার রায়, সার্কেল সম্পাদক, বিএসএনএলইইউ, কলকাতা টেলিফোন্স সার্কেল তার বক্তব্যে বলেন যে অবিলম্বে নিয়মিত, অবসরপ্রাপ্ত ও ঠিকা কর্মচারীদের বকেয়া আসন্ন দুর্গাপূজার আগে প্রদান করার দাবি উপস্থিত সদস্যদের সামনে করেন। তিনি আরও বলেন যে বিএসএনএল কলকাতা টেলিফোন্স সার্কেল এর কর্তৃপক্ষকে এর দায়িত্ব নিতে হবে। কম সঞ্জীব ব্যানার্জী, সার্কেল সম্পাদক, এআইবিডিপিএ, কম লোকনাথ ঘোষ, কার্যকরী সম্পাদক, সিটিটিএমইউ, কম রামসুন্দর বসু, সহকারী সার্কেল সম্পাদক, কম অরুণ কোঁচ, জেলা সম্পাদক ও কম বিশ্বজিৎ শীল, জেলা সম্পাদক কর্মচারীদের বিভিন্ন অমীমাংসিত দাবিদাওয়া কর্তৃপক্ষের সমাধা করার দাবি জানান। কম সুকান্ত মজুমদার, সহকারী সার্কেল সভাপতি সভার কাজ পরিচালনা করেন। কম মণীষা বিশ্বাস সহ অন্যান্য বর্ষীয়ান নেতৃত্ব সভায় উপস্থিত ছিলেন। কোভিড১৯ পরিস্থিতিতেও যেসমস্ত সদস্যরা সভায় উপস্থিত থেকে সভাকে সাফল্যমণ্ডিত করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। 

 
[7th Oct 2020]

বিএসএনএলইইউ কলকাতা টেলিফোন্স সার্কেল এর মধ্যাহ্ন কালীন বিরতিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি

 

আজ ৭ অক্টোবর, ২০২০ কলকাতা টেলিফোন্স এর সিজিএম এর দপ্তর টেলিফোন ভবনে মধ্যাহ্নকালীন বিরতিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয় বিএসএনএলইইউ এর নেতৃত্বে। কম শিশির কুমার রায়, সার্কেল সম্পাদক, বিএসএনএলইইউ, কলকাতা টেলিফোন্স সার্কেল তার বক্তব্যে বলেন যে অবিলম্বে নিয়মিত, অবসরপ্রাপ্ত ও ঠিকা কর্মচারীদের বকেয়া আসন্ন দুর্গাপূজার আগে প্রদান করার দাবি উপস্থিত সদস্যদের সামনে করেন। তিনি আরও বলেন যে বিএসএনএল কলকাতা টেলিফোন্স সার্কেল এর কর্তৃপক্ষকে এর দায়িত্ব নিতে হবে। কম সঞ্জীব ব্যানার্জী, সার্কেল সম্পাদক, এআইবিডিপিএ, কম লোকনাথ ঘোষ, কার্যকরী সম্পাদক, সিটিটিএমইউ, কম রামসুন্দর বসু, সহকারী সার্কেল সম্পাদক, কম অরুণ কোঁচ, জেলা সম্পাদক ও কম বিশ্বজিৎ শীল, জেলা সম্পাদক কর্মচারীদের বিভিন্ন অমীমাংসিত দাবিদাওয়া কর্তৃপক্ষের সমাধা করার দাবি জানান। কম সুকান্ত মজুমদার, সহকারী সার্কেল সভাপতি সভার কাজ পরিচালনা করেন। কম মণীষা বিশ্বাস সহ অন্যান্য বর্ষীয়ান নেতৃত্ব সভায় উপস্থিত ছিলেন। কোভিড১৯ পরিস্থিতিতেও যেসমস্ত সদস্যরা সভায় উপস্থিত থেকে সভাকে সাফল্যমণ্ডিত করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। 

 
[5th Oct 2020]

শ্রমিকদের জাতীয় কনভেনশন(অন লাইন)

     গান্ধী জয়ন্তী দিবস, ২ রা অক্টোবর,২০২০

                          ঘোষণাপত্র

 

 কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নসমূহ, শিল্পভিত্তিক ফেডারেশন/এ্যাসোশিয়েসনগুলির যৌথ আহ্বানে শ্রমিকদের এই জাতীয় কনভেনশন ২ রা অক্টোবর,২০২০ ,গান্ধী জয়ন্তী দিবসে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। লক ডাউনের কারণে শারীরিক ভাবে জমায়েত হওয়ার সমস‍্যা থাকায় এই প্রথম অন লাইনে এই কনভেনশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। 

দেশের শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষের বুনিয়াদি গণতান্ত্রিক অধিকার ও সাংবিধানিক অধিকারের ওপর কেন্দ্রের মোদি নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ও বিজেপি শাসিত রাজ‍্য সরকারগুলি যে ভয়ানক আক্রমণ নামিয়ে এনেছে, এই কনভেনশন তার তীব্র নিন্দা করছে।

 

প্রথমবার ক্ষমতায় থাকাকালে (২০১৪-২০১৯) বিভিন্ন বিষয়গুলিতে সংশ্লিষ্ট জনেদের সাথে আলাপ আলোচনার যে মনোভাব মোদি সরকার দেখিয়ছিল, ২০১৯ এ দ্বিতীয় বার ক্ষমতাসীন হবার পর তার কোনও তোয়াক্কা ক‍রছে না। যখন অর্থনীতির সমস্ত সূূচক জানাচ্ছে যে , চাহিদা না থাকার ফলে দেশের অর্থনীতির ব‍্যাপক অবনমন ঘটছে, তখন সরকার কর্পোরেটদের ব‍্যবসার পথ আরো মসৃণ করতে(ease of doing business) একই নীতি অনুসরণ করে চলেছে যার পরিণতি হচ্ছে দারিদ্র্যের ব‍্যাপ্তি এবং আরও গভীর সংকটের আবর্তে তলিয়ে যাওয়া। এই অবস্থার মধ‍্যেও, এই সরকার শুধু মাত্র কর্পোরেট ট‍্যাক্স কমিয়েই থেমে থাকে নি, অত‍্যন্ত অগণতান্ত্রিক ভাবে, সংসদে বিরোধী দলের সদস‍্যদের অনুপস্থিতিতে গাজোয়ারী করে তিনটি শ্রম কোড পাশ করিয়ে নিয়েছে। এই শ্রম কোডগুলি এমনভাবে তৈরী করা হয়েছে যার মধ‍্যে দিয়ে বাস্তবে শ্রমিকদের ক্রীতদাসে পরিণত করার সমস্ত শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে; নতুন ইউনিয়ন তৈরী করাকে দুঃসাধ‍্য করে তোলা হয়েছে এবং শ্রমিকদের ধর্মঘটের সাংবিধানিক অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অসংগঠিত ক্ষেত্রের বিশাল সংখ‍্যক শ্রমিক যেমন রাস্তার হকার, গৃহ সহায়িকা, মিড ডে মিল কর্মী, বিড়ি শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক,রিক্সা চালক, গৃহশ্রমিকসহ দৈনিক মজুরীর দিন আনা দিন খাওয়া শ্রমিকদের সমস্তরকম শ্রম আইনের সুযোগ সুবিধার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে । 

ঠিক একই রকমভাবে, সমস্ত রকম সংসদীয় গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক রীতিনীতি ভেঙ্গে সরকার তিনটি কৃষি বিল সংসদে পাশ করিয়ে নিয়েছে এবং কৃষকের উৎপাদিত শস্যের ন‍্যূনতম সহায়ক মূল‍্য আইনগত ভাবে নিশ্চিত করার কোনও ব‍্যবস্থা না রেখেই অত‍্যাবশ‍্যকীয় পণ্য আইন পরিবর্তন করেছে কর্পোরেটদের সুবিধা করে দিতে। যাতে দেশী ও বিদেশি সংস্থাগুলি চুক্তি ভিত্তিক কৃষিতে, বৃহৎ খাদ‍্য প্রক্রিয়াকরণ ও একচেটিয়া পাইকারি বাজারের পুরো পুরি দখল নিতে পারে। যা, দেশের মানুষের খাদ‍্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বিশাল অশনি সংকেত। সরকার এখানেই থেমে থাকেনি। বিদ‍্যুৎ (সংশোধনী) বিল,২০২০ সংসদে পেশ না করেই, ১২ টি রাজ‍্যের মুখ‍্যমন্ত্রীদের গুরুতর আপত্তিকে গুরুত্ব না দিয়ে, বিদ‍্যুৎ বিতরণ ব‍্যবস্থাকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার কাজ শুরু করে দিয়ে বর্তমান কর্মীদের ভবিষ্যত ফ্র‍্যানচাইজি মালিকের দয়ার ওপরে ছেড়ে দিয়েছে। ইতিপূর্বে, রাষ্ট্রায়ত্ব ব‍্যাংকগুলির বিপুল পরিমান আনাদায়ী ঋণ উদ্ধার করার কোনও চেষ্টা না করে, আমানতকারীদের অর্থের বিনিময়ে সেই ক্ষতি সামলানোর ব‍্যবস্থা নিচ্ছে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে একাধিক ব‍্যাংকের একীকরণ (merger) করা হয়েছে। জি এস টি র ক্ষেত্রে ভ্রান্ত নীতি ও দেশের মুখ থুবড়ে পরা অর্থনীতির ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক অবস্থা আজ অত‍্যন্ত শোচনীয়। যার প্রভাবে রাজ‍্যগুলির আর্থিক অবস্থাও আজ গভীর সংকটে। অন‍্যদিকে, রিজার্ভ ব‍্যাংক, এল আই সি ও অন‍্যান‍্য রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠানগুলিকে এ টি এম এর মত ব‍্যবহার ক‍রছে এই কেন্দ্রীয় সরকার। রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থাগুলিকে নিলামে চড়িয়ে, ১০০% এফ ডি আই এর মাধ‍্যমে অত‍্যন্ত ক্ষিপ্রতার সঙ্গে চলছে বেসরকারি করণের প্রক্রিয়া। এর মধ‍্যে রয়েছে রেলের রুট, রেল স্টেশন, রেলের উৎপাদন ইউনিট, বিমান বন্দর, পোর্ট এবং ডক ,লাভজনক সরকারি বিভাগ, কয়লা খনি, আর্থিক দিক দিয়ে সমৃদ্ধ ভারত পেট্রোলিয়ামের মত সংস্থা, ৪১ টি সমরাস্ত্র তৈরির কারখানা(অর্ডন‍্যান্স ফ‍্যাক্টরী), বি এস এন এল(যার ৮৬০০০ কর্মীকে দেশদ্রোহী আখ‍্যা দেওয়া হয়েছে), এয়ার ইন্ডিয়া, সড়ক পরিবহন এমন অজস্র সরকারি বিভাগ বা সংস্থা। আর এই ধ্বংসাত্মক অপকর্মগুলি অত‍্যন্ত ক্ষিপ্রতার সাথে এমন একটা সময়ে করে ফেলার ব‍্যবস্থা হচ্ছে, যখন সারা দেশ কোভিড-১৯ অতিমারীর আক্রমণে বিধ্বস্ত। এমন কি যাদের আমরা কোরোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামনের সারির সৈনিক বলছি, সেই চিকিৎসক, নার্স, চিকিৎসা কর্মী, সাফাই কর্মী, অঙ্গন ওয়াড়ী, আশাকর্মীরা নিজেদের জীবন বিপন্ন করেও বাধ‍্য হচ্ছেন অঞ্চলে অঞ্চলে কাজ ক‍রে যেতে। অথচ তাদের জন‍্য যথাযথ ব‍্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে না। দেওয়া হচ্ছে না প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আর্থিক সুযোগ সুবিধা বা বীমার সুবিধা। আর ধান্ধার পূঁজিপতিরা এই অতিমারী আবহের মধ‍্যেই তাদের বাজার প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করে খবরের শিরোনামে থাকছে। 

আর এই অপ‍রিকল্পিত লকডাউন কোটি কোটি পরিযায়ী শ্রমিকের জীবনে এক দুর্বিসহ যন্ত্রণা বয়ে এনেছে। যা কিনা নোটবন্দীর দুঃসহ অভিজ্ঞতাকেও ম্লান করে দিয়েছে। এই সময়টা মহিলাদের কাছেও ছিল কষ্টকর, যারা কর্মক্ষেত্রে, ঘরের বাইরে ও ভেতরে সর্বত্র অতিরিক্ত লাঞ্জনা-গঞ্জণার শিকার হয়েছেন।

দেশের অর্থনীতি একই জায়গায় দাঁড়িয়ে। বেকারী ,তথ‍্যের হিসেবে বিশেষকরে মহিলাদের ক্ষেত্রে বেকারী অতীতের সব সংখ‍্যাকে ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ স্থানে আর ধারাবাহিক ভাবে জিডিপি হ্রাস পেয়ে এমন বিশাল ঋণাত্মক মানে গিয়ে পৌঁছেছে, তা অতীতে কখনও কেউ প্রত‍্যক্ষ ক‍রে নি।

লকডাউনের শুরুতে, কোম্পানির মালিকদের প্রতি এ্যাডভাইসারি জারি করে সরকার জানিয়েছিল - লক ডাউনের কারণে কোনও কর্মীকে যেন ছাঁটাই না ক‍রা , কারো বেতন যেন না কাটা হয় । পরবর্তীতে সরকার নিজেই তাকে গুরুত্বহীন করে দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে মালিকদের চ‍্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, সরকার তাদের বশংবদের মতো,তা প্রত‍্যাহার করে নিয়েছে।

আবার, এরই মাঝে পিএমকেয়ার(PMCARE) নামে এক তহবিল গঠণ করা হয়েছে যা আগাগোড়াই অসচ্ছ্বতায় ভরা। এই তহবিলে গেছে কর্পোরেটদের বিপুল অংকের অর্থ, আর এই তহবিলে সরকারি কর্মচারীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে বাধ্যতামূলক (যাকে বলা যায় - হাত মচকে আদায় করা) অনুদান। তাদের মহার্ঘভাতা বৃদ্ধি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বহু পুরোনো এক নির্দেশনামাকে খুঁজেপেতে বের করে সরকারি কর্মীদের অবসরের আগেই বাধ‍্যতামূলক অবসর চালু করার ব‍্যবস্থাকে কার্যকর করার উদ্দ‍্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকার কোরোনা অতিমারীর এই সংকটে, তাদের সমস্ত দায়দায়িত্ব নিজেদের ঘাড় থেকে ঝেড়ে ফেলে তা চাপিয়ে দিচ্ছে রাজ‍্যগুলির ওপর। প্রত‍্যক্ষ ক‍রা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক বিভিন্ন রাজ‍্যে নির্বাচিত রাজ‍্য সরকারগুলিকে উপেক্ষা ক‍রা এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা যেমন সিবিআই, ইডি, এনআইএ ইত‍্যাদির মাধ‍্যমে এবং আর্থিক চাপ প্রয়োগ করে বিরোধী রাজনৈতিক ব‍্যক্তিদের নিশানা ক‍রা হচ্ছে। আমাদের সমাজের ধর্মনিরপেক্ষতার পরিমণ্ডলকে নষ্ট করতে, ধর্মীয় বিভাজনের ভয়ংকর খেলা চলছে। দিল্লী পুলিশ সিএএ বিরোধী আন্দোলনকারী বুদ্ধিজীবীদের নাম জুড়ে দিয়ছে উত্তর-পূর্ব দিল্লির দাঙ্গায় উস্কানি দেবার অভিযোগে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে। অথচ যে বিজেপি নেতারা প্রকাশ‍্যে ভয়ংকর বিদ্বেষ ছড়িয়ে বক্তৃতা করলেন, তাদের বিরুদ্ধে এফ আই আর পর্যন্ত হল না। এই অপকর্মের জন‍্য সারা দেশ আজ দিল্লী পুলিশের নিন্দায় মুখর। দেশের সর্বোচ্চ আদালতকেও যেভাবে প্রভাবিত করা হচ্ছে তা অতীব বিপদজনক। এই সংকটজনক পরিস্থিতির মধ‍্যেই সরকার নয়া শিক্ষা নীতি প্রণয়ন করেছে যার মধ‍্যে দিয়ে শিক্ষাকে পু্রোপুরি বেসরকারীকরণ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলস্বরূপ, দেশের গরীব মানুষ বঞ্চিত হবে শিক্ষার সুযোগ থেকে।

মূল কথা হল, এই সরকার দেশের সংবিধানকেই অগ্রাহ‍্য করে তা পরিত্যক্ত ঘোষণা করছে । 

পরিস্থিতি অত‍্যন্ত সংকটজনক। কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নসমূহের এই জাতীয় কনভেনশন, শ্রমিক বিরোধী, কৃষক বিরোধী, দেশ বিরোধী মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের এই কাজকর্মের তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা করছে। এই কনভেনশন লক্ষ্য করেছে যে, বিভিন্ন ক্ষেত্রের শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষ তাদের জীবন ও জীবিকার ওপর ওপর সরকারের এই জঘণ্য আক্রমণের বিরুদ্ধে, তাদের দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ‍্যে দিয়ে অর্জিত অধিকার ও সুযোগ সুবিধা রক্ষায় ধারাবাহিক ভাবে লড়াই করছেন। কয়লা শ্রমিকদের ৩ দিনের ধর্মঘট, অর্ডন‍্যান্স ফ‍্যাক্টরীর শ্রমিক কর্মচারীদের ধর্মঘট, রেলওয়ে উৎপাদন সংস্থার শ্রমিকদের আন্দোলন, ভারত পেট্রোলিয়াম এর কর্মীদের ২ দিনের ধর্মঘট এবং পরিবহন , তৈলক্ষেত্র, ইস্পাত , বন্দর, সিমেন্ট, শিল্পের শ্রমিকদের ও প্রকল্প শ্রমিকদের আন্দোলন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের ও শিল্পের শ্রমিক কর্মচারীরা আন্দোলনে সামিল। উত্তর প্রদেশের বিদ‍্যুৎ কর্মী ও ইঞ্জিনিয়াররাও পথে নেমেছেন বৃহত্তর আন্দোলনে, যারা ইতিমধ্যে বেসরকারী করণের প্রতিবাদে ও অন‍্যান‍্য দাবিতে ধর্মঘটে পর্যন্ত অংশ নিয়েছেন।

দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে, আগামী ১২ অক্টোবর ,২০২০ থেকে, অর্ডন‍্যান্স কর্মীদের অনির্দিষ্টকাল ধর্মঘটের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে এই কনভেনশন তাদের আন্দোলনের পাশে থাকার কথা ঘোষণা ক‍রছে এবং দেশের শ্রমিকদের আহ্বান জানাচ্ছে ১২ অক্টোবর, ২০২০ এবং তারপর যতদিন না ধর্মঘটের সম্মানজনক মীমাংসা হয়, ততদিন প্রতি সপ্তাহে সমস্ত কর্মক্ষেত্রে জঙ্গি প্রতিবাদ কর্মসূচি সংগঠিত করতে।

সংসদে ভোটাভুটি করতে না দিয়ে পাশ করিয়ে নেওয়া কৃষক বিরোধী এই কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনকারী কৃষকদের প্রতি এই কনভেনশন পূর্ণ সংহতি জ্ঞাপন করছে এবং ঘোষণা করেছে যে, যৌথ ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন সর্বভারতীয় স্তর থেকে আঞ্চলিক স্তর পর্যন্ত সর্বত্র তাদের সবরকম আন্দোলনের প্রতি সমর্থন ও সংহতি জ্ঞাপনে অঙ্গীকারবদ্ধ।

 

লকডাউন চলাকালীন নানাবিধ বাধা নিষেধের মুখে দাঁড়িয়েও ,যৌথ ট্রেড ইউনিয়নসমূহের

 আহ্বানে সারাদেশের শ্রমিকশ্রেণী ও শ্রমজীবী মানুষ স্বতঃস্ফূর্ততার সাথে সমস্ত কর্মসূচিতে যে বিপুল সংখ্যায় অংশ নিয়েছেন, তাদের এই কনভেনশন অভিনন্দন জানাচ্ছে । এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনে এই আন্দোলনের তীব্রতা আরো বাড়িয়ে তুলতে হবে। এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে মোদি সরকার কর্পোরেট দের স্বার্থ রক্ষা করতে দেশের শ্রমিক-কৃষক, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ বলিদান দিতে নিঃসংশয়। 

সমস্ত ট্রেড ইউনিয়নসমূহের ধারাবাহিক দাবীর সাথে সহমত হয়ে দেশের নামজাদা অর্থনীতিবিদরাও বার বার বলে আসছেন যে এই সময়ে সরকারের উচিৎ সাধারণ মানুষের হাতে অর্থের যোগান নিশ্চিত করা, যার ফলে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা যেমন কিছুটা বৃদ্ধি পাবে পাশাপাশি তা দেশের ক্ষয়িষ্ণু অর্থনীতিকেও পুণরুজ্জীবিত করতে সহায়ক হবে। কিন্তু বিজেপি সরকার তা করতে কিছুতেই রাজি নয়। 

 

দেশের সরকারি গুদামগুলিতে অপর্যাপ্ত খাদ্য শস্য মজুত থাকা সত্বেও সরকার গরীব মানুষকে বিনামূল্যে রেশন দেবার প‍রিপন্থী।

এই কনভেনশন দৃঢ়তার সাথে জানাচ্ছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সমস্ত শ্রমিকশ্রেণীর ঐক‍্যবদ্ধ প্রতিরোধ আন্দোলনকে আরও উচ্চ পর্যায়ে উঁচু মাত্রায় নিয়ে গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সার্বিক অসহযোগিতা ও অমান‍্যতার আন্দোলনে উন্নীত করতে হবে। এর সাথে সমস্ত স্তরের শ্রমজীবী মানুষ, শ্রমিক, কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের ঐক‍্যকে সংহত ক‍রে এই আন্দোলনে সামিল ক‍রতে আহ্বান জানাচ্ছে এই কনভেনশন।

 

এই কনভেনশন দেশের শ্রমিক শ্রেণী ও শ্রমজীবী মানুষকে আহ্বান জানাচ্ছে নিম্নলিখিত দাবী সমুহের ভিত্তিতে দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের জন‍্য প্রস্তুত হতে। 

 

১) আয়করের আওতা বহির্ভূত নেই প্রতিটি পরিবারকে জন্য প্রতি মাসে নগদ ৭৫০০ টাকা দিতে হবে।

২) প্রতিটি অভাবগ্রস্ত পরিবারের জন্য মাসে ১০ কেজি বিনামূল্যে রেশন দিতে হবে।

৩) MGNREGA প্রকল্পের পরিসর বৃদ্ধি করে গ্রামীণ এলাকায় বছরে ২০০ দিনের কাজ দিতে হবে, শহর এলাকায় কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

৪) সমস্ত কৃষক-বিরোধী আইন এবং শ্রমিক-বিরোধী সকল শ্রম কোড সমুহ বাতিল করতে হবে।

৫) রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্প/ক্ষেত্রসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি বেসরকারিকরণ করা বন্ধ করতে হবে এবং সরকারি উৎপাদন কেন্দ্রগুলি যেমন রেলওয়ে, অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি এবং বন্দর ইত্যাদি কর্পোরেটদের হাতে তুলে দেওয়া চলবে না।

৬) সরকারি এবং রাষ্ট্রায়ত্ব ক্ষেত্রগুলির কর্মীদের চাকরির মেয়াদ শেষ হবার আগেই তাদের অবসর নিতে বাধ্য করার দানবীয় আইন বাতিল করতে হবে।

৭) সকলের জন‍্য পেনশনের ব‍্যবস্থা করতে হবে, এনপিএস ( National Pension Scheme) বাতিল করে পুরোনো পেনশন ব্যবস্থা চালু করতে হবে। ইপিএস-৯৫ ( Employees Pension Scheme-1995) কে উন্নত করতে হবে।

 

এই কনভেনশন প্রস্তাব ক‍রছে অক্টোবর,২০২০ র মধ্যেই সারা দেশের প্রতিটি রাজ্যে/ জেলায়/ শিল্পক্ষেত্রে/ প্রতিটি কাজের জায়গায় শারীরিক উপস্থিতির সাহায্যে অথবা যেখানে তা সম্ভব নয় সেখানে অনলাইনে সবাইকে যুক্ত করে কনভেনশন আয়োজন করার। শ্রমজীবী মানুষের ওপর সরকারের শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী এই শ্রম কোডগুলির প্রতিকূল প্রভাবের বিষয়ে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ব‍্যাপক প্রচার সংগঠিত করে আগামী ২৬ নভেম্বর,২০২০ একদিনের সর্বভারতীয় সাধারণ ধর্মঘটকে সফল ক‍রে তুলতে সার্বিক উদ‍্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

আমাদের মনে রাখতে হবে এই একদিনের সাধারণ ধর্মঘট হচ্ছে আগামী দিনে আরও তীব্র, আরও কঠিন দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের এক প্রস্তুতি।

এই কনভেনশন আহ্বান জানাচ্ছে , যারা কোনও অনুমোদিত ইউনিয়নে বা সংগঠণে সংঘবদ্ধ অথবা যারা কোনও সংগঠণের আওতাভুক্ত নয় বা তার বাইরে রয়েছেন, যারা সংগঠিত বা অসংগঠিত ক্ষেত্রের যেখানেই থাকুন না কেন সরকারের সবরকম জন-বিরোধী, শ্রমিক-বিরোধী, কৃষক-বিরোধী এবং দেশ-বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই আন্দোলনকে সামনে রেখে আগামী ২৬ নভেম্বর,২০২০ সারা দেশব‍্যাপী সাধারণ ধর্মঘটকে সফল করে তুলতে সর্বশক্তি নিয়োজিত ক‍রেন।

আই এন টি ইউ সি (INTUC)     এ আই টি ইউ সি (AITUC) এইচ এম এস (HMS)

সি আই টি ইউ (CITU) এ আই ইউ টি ইউ সি (AIUTUC) টি ইউ সি সি (TUCC)

সেওয়া(SEWA) এ আই সি সি টি ইউ ( AICCTU) এল পি এফ (LPF)

ইউ টি ইউ সি (UTUC) এবং সমস্ত শিল্পভিত্তিক ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনগুলির পক্ষ থেকে।

 
[1st Oct 2020]

এইউএবি এর আহ্বানে ১ অক্টোবর, ২০২০ কালো দিবস পালন 

 

গত ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ এইউএবি এর সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে আগামী ১ অক্টোবর, ২০২০ বিএসএনএল এর সমস্ত এক্সিকিউটিভ ও নন-এক্সিকিউটিভ কর্মচারী কালো দিবস পালন করবেন। সেই আহ্বান অনুসারে আজ বিএসএনএল এর ২০তম প্রতিষ্ঠা দিবসে কলকাতা টেলিফোন্স সার্কেল এর সদর দপ্তরে এইউএবি এর কলকাতা টেলিফোন্স সার্কেল এর নেতৃত্ব ও বিএসএনএল এর এক্সিকিউটিভ ও নন-এক্সিকিউটিভ কর্মচারীরা কালো দিবস পালন করেন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন যে বিএসএনএল এর ৪জি পরিষেবা চালু করার ব্যাপারে যেভাবে একটার পর একটা বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে তাতে এই সংস্থার এবং তার সাথে সাথে কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ ক্রমশ আরো অন্ধকার হয়ে পড়ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই নীতির কারণে বিএসএনএল অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। 

 
You are Visitor Number Hit Counter
Hit Counter
[CHQ] [AP] [Kerala] [Karnataka] [Tamil Nadu] [Calcutta] [West Bengal] [Punjab] [Maharashtra] [Orissa] [MP] [Gujrat] [SNEA] [AIBSNLEA] [TEPU]
[Intranet / BSNL] [DOT] [DPE] [TRAI] [PIB] [CITU ] / AIBDPA